নিজস্ব প্রতিবেদক
বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬ প্রিন্ট ৩০১ বার পঠিত
ঢাকার কারখানা বন্ধ এবং তা সাভারের আশুলিয়ায় স্থানান্তরের কারণে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো (বিএটি) বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেড বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের মুখোমুখি হয়েছে। কোম্পানির প্রকাশিত ২০২৫ হিসাব বছরের আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এককালীন ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৭১৫ কোটি টাকা, যা কোম্পানির বার্ষিক মুনাফায় বড় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
কারখানা বন্ধ ও স্থানান্তরের কারণ:
গত বছরের জুনে সুপ্রিম কোর্ট ঢাকার জমির ইজারা চুক্তি নবায়নের আবেদন খারিজ করার পর বিএটি বাংলাদেশ ঢাকার কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সঙ্গে মহাখালী ডিওএইচএসে অবস্থিত প্রধান কার্যালয়ও সাভারের আশুলিয়ায় স্থানান্তর করা হয়।
কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, কারখানা পুনর্গঠন ও স্থানান্তরের জন্য মোট ৭১৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ, প্রায় ৩৭৫ কোটি টাকা, স্থায়ী সম্পদের অবলোপনজনিত কারণে ব্যয় হয়েছে। এই ব্যয় কোম্পানির বার্ষিক মুনাফায় সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
উৎপাদন সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ:
ঢাকার কারখানা বন্ধের পর সাভারের কারখানায় উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে বিএটি বাংলাদেশ ২৯৭ কোটি টাকা বিনিয়োগের অনুমোদন দেয়। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ঢাকার কারখানার সমস্ত যন্ত্রপাতি এবং সিগারেট তৈরির সরঞ্জাম ধাপে ধাপে সাভারে স্থানান্তর করা হয়েছে।
কারখানা স্থানান্তর এবং পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হলেও, আকস্মিক পরিবর্তনের কারণে কোম্পানির আর্থিক ফলাফলে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।
মুনাফা ও শেয়ারহোল্ডারদের প্রভাব:
২০২৫ হিসাব বছরে বিএটি বাংলাদেশের শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) ১০ টাকা ৮১ পয়সা হয়েছে। এটি আগের বছরের ৩২ টাকা ৪২ পয়সা থেকে প্রায় ৬৭ শতাংশ কম।
মুনাফায় এই বড় পতনের কারণে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের মাত্র ৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ প্রদানের সুপারিশ করেছে। আগের হিসাব বছরে কোম্পানিটি ৩০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। অর্থাৎ লভ্যাংশের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
শেয়ারবাজারে প্রভাব: বিএটি বাংলাদেশ শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত একটি বহুজাতিক কোম্পানি। এই ধরনের বড় আর্থিক ক্ষতি শেয়ারবাজারে কোম্পানির শেয়ার মূল্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিনিয়োগকারীরা এই ক্ষতির কারণে শেয়ারের মূল্য ওঠানামা পর্যবেক্ষণ করছেন।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাভারের কারখানায় যন্ত্রপাতি স্থানান্তর এবং উৎপাদন সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদে কোম্পানির জন্য লাভজনক হতে পারে। তবে শুরুর দফায় এই বড় ক্ষতি মুনাফার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। ঢাকার কারখানা বন্ধের কারণে কিছু কর্মচারী স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় পুনর্বিন্যস্ত হয়েছেন। উৎপাদন কার্যক্রম স্থানান্তরের সময় উৎপাদন সাময়িকভাবে কমেছে। পরিবহন ও সরবরাহ শৃঙ্খল যন্ত্রপাতি ও কাঁচামালের স্থানান্তরের জন্য অতিরিক্ত খরচ ও সময় ব্যয় হয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ:
বাহ্যিকভাবে, বিএটি বাংলাদেশের এই ক্ষতি বহুজাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবেও ধরা যেতে পারে। স্থানান্তর এবং পুনর্গঠন দীর্ঘমেয়াদে কোম্পানির কার্যকারিতা বৃদ্ধি করবে, তবে শুরুতে এ ধরনের এককালীন ব্যয় মুনাফার ওপর নেতিবাচক চাপ সৃষ্টি করে। শেয়ারহোল্ডারদের জন্যও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। বড় লভ্যাংশের হ্রাস এবং ইপিএস-এর উল্লেখযোগ্য পতন বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, যা ভবিষ্যতের বিনিয়োগ পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
Posted ০৬:২১ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: ই-মেইল: bankbima1@gmail.com